Skip to main content

Posts

অধিকাংশ বড় কবিই ঈশ্বর কিংবা নিরীশ্বরে স্থির থাকতে পারেন নি।বিশ্বাসের পালাবদল করেছেন। যেমন ভেবে ভেবে ভয় পেয়েছেন ঈশ্বরে বা পরকালে, তেমনি ভেবেছেন- ধুর!  কবি নজরুল, রবীন্দ্রনাথ এদের জিবনী ঘাটলে দেখা যায় তারা বড্ড সংশয়বাদী ছিলেন।

ঈশ্বরের ধর্ম - মাটি ও ঈশ্বর

মাটি  ও ঈশ্বর  মাটি বড়ই দৈর্যশীল একটি সত্তা , মাটিকে মানুষ যতই কাটাকাটি, পিটাপেটি করুকনা কেন মাটি কখনোই মানুষকে এর ফিডব্যাক দেয়না। মাটি মানুষের এই চরম অত্যাচার সহ্য করে আসছে অনন্ত কাল অবদি, এটাই হয়ত মাটির ধর্ম । এই মাটি মানুষকে অনেক কিছু শিখাতেও চায় বিনামূল্যে,বিনাঘামে। মানুষ তাও মানতে চায় না। মানুষ তার নিজস্ব লালিত শিক্ষায় অনড় থাকতেই সাচ্ছন্দ বোধকরে। এতেও মাটির কোনো ফিডব্যাক নেই। মাটির ধর্মই যেন মানুষের নিপীড়ন সহ্য করা। অন্যদিকে ঈশ্বরের ধর্মও মাটির মতই। মানুষ ঈশ্বরকে রূপায়িত করেছে নানা রূপে , একেক জন একেক রূপে তাকে নানা রকম গালাগাল দিচ্ছে। মানুষ ঈশ্বরকে হাজার হাজার ধর্মের দায়িত্ব দিয়ে নিজ  নিজ মতে ভাগাভাগি করলেও তাতেও ঈশ্বরের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ঈশ্বর যেন মাটির ওই অনুসারী। মাটির সাথে ঈশ্বরের অনেকটাই মিল রয়েছে , ঈশ্বরের ধর্ম  ঈশ্বর সর্ব শক্তিমান, সৃষ্টি জগতের মালিক, মানুষের নিয়ন্তা, নেয় বিচারক,পরম করুণাময়  দয়ালু , ক্ষমাকারী, সাহায্যকারী।কিন্ত ব্যাপার হলো, তার এইসব মহান কর্মসাধনের জ...

কে কার নিয়ন্তা, মানুষের বহুরূপী মতবাদ।

আস্তিক্যবাদ - ঈশ্বর সকল কিছুর নিয়ন্তা। নাস্তিক্যবাদ - প্রকৃতিই সকল কিছুর নিয়ন্তা। যুক্তিবাদ - মানুষ বা মানুষের কর্ম ক্রিয়াই নিয়ন্তা। সংশয়বাদ - নিশ্চিৎ নই কে কার নিয়ন্তা । অজ্ঞেয়বাদ - ঈশ্বরবাদ , নিরীশ্বরবাদ, যুক্তিবাদ, প্রকৃতিবাদে কৌতুহল নেই; এগুলি জানি না, প্রয়োজনও ভাবি না। মনোবিজ্ঞান - আপন মস্তিষ্কই নিজস্ব নিয়ন্তা। বিজ্ঞান - অনু ,পরমানু তথা পদার্থের চরিত্র ধর্ম ই নিয়ন্তা। গ্রহরত্নবাদ - গ্রহ,নক্ষত্রই ত সর্ব নাটের গুরু । বিবর্তনবাদ - পরষ্পর নিয়ন্ত্রনাধীন  প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটছে, বিবর্তন ই প্রকৃতির ধর্ম , নিয়ন্তা থাকতে ই পারে। মুক্তমনা - আমার নিয়ন্তা আমিই, কারো প্রয়জন পরে না আমাকে নিয়ন্ত্রণের। আমার বাখ্যা ভূলও হতে পারে, পাঠক সমাজ শুদ্রে নিবেন নাহয়।

আমার মৃত্যু, অতঃপর তান্ডব জ্ঞানহীন এই দেহ

আমার হৃদপিণ্ডের পাম্পিং বন্ধ হওয়ার ফলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে, তার পর পরই আমার এই চিন্তাভাবনার সাথে / জ্ঞানের সাথে / বিবেকের সাথে আমার এই দেহের আর কোনো সম্পর্কই থাকিবেনা। তান্ডব জ্ঞানহীন এই দেহ তখন আমার কি দরকার বা কাজে আসবে। এই আমি আমাকেই তখন চিনিবার কোনো উপায়ও থাকিবে না। আমার সমস্ত চিন্তা ভাবনা সমস্ত স্মৃতি, এই জীবনের সমস্ত অভিজ্ঞতা দেহের সাথে সেখানেই শেষ।তখন এটা আগুনে পুড়ালে বাষ্পীয় আকারে বাতাসে মিশে যাবে, পানিতে বাসিয়ে দিলে পানিতে মিলিয়ে যাবে আর মাটি চাপা দিলে মাটিতেই পঁচে গলে একাকার হয়ে যাবে। আর মস্তিষ্কে পচন ধরার সাথে সাথেই পুনরায় বেঁচে ওঠার সমস্ত আকাংখারও সমাপ্তি ঘটিবে । এটাই সত্য , সত্য তিক্ত বা কষ্টকর হলেও সত্য মেনে নেয়াটাই হয়তো সাহসী মানুষদের কাজ। ব্যাক্তিগতভাবে ইচ্ছাপোষন করি, মৃত্যুর পরে এই শরীরটা কাজে লাগুক।তাই আমি আমার মৃতদেহটা দান করে যাবো জন্মভূমির কোনো এক মেডিকেল কলেজে, যেখানে মেডিকেল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা আমার লাশ কেটে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং পরবর্তীতে জীবিত মানুষের জন্যে নিখুঁতভাবে অস্ত্রপাচারের কৌশল শিখবে। অথবা আমার এই চোখ বা এই শরীরের যাবতীয় অঙ্গপ্...

শহরের বিবর্তনে কালের মানুষ

ঈশ্বর গ্রাম  সৃষ্টি  করেছেন, সে গ্রাম কে শহরে রুপ দিয়েছে কালের মানুষ। এই  বিষয়ে শহরের রুপকার ঈশ্বরকে মানবেন কি না তা একান্তই অাপনার ব্যক্তিগত নিজস্বতা। তবে এই বিবর্তনে মানুষকে সেলুট না দিয়ে উপায় কি ? কারন মানুষের  এই শহর  গড়ার  সংগ্রাম, মেধা, স্রম, ঘাম, রক্ত দানের চাক্ষুষ  স্বাক্ষী অাপনিই, যতটা চাক্ষুষ নন ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ প্রতিভায়। তবে ঈশ্বরে ভাবতে পারেন,  বিশ্বাসও করতে পারেন, এটা অাপনার বিশ্ব নাগরিকের অধিকার। অার আপনার এই অধিকারে যে বাধা দেয়, সে নাস্তিক,  সংসয় বাদী, উগ্রবাদী, মৌলবাদী বা যাইহোক হোক - তবে মুক্তমনা নয়।                                                                

মুক্তমনারা কি ধর্ম বিরোধী ?

মুক্তমনা মানেই  ধর্ম-বিরোধী নয়, বলা যায় অনেক মুক্তমনাই ধর্মের কঠোর সমালোচক । কারণ তারা মনে করেন ধর্ম জিনিসটা আদীম কালের পুরুনোনীতি ,কুসংস্কার বা  রূপকথার গল্প যাহা  মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। মুক্তমনারা সর্বদা যৌক্তিক , প্রমাণিত ও  বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আস্থাশীল, আজন্ম লালিত কুসংস্কারের উপর  নয়। রূপকথার অদৃশ্য গল্প বা কুসংস্কারের কাছে আত্মসমর্পণ করা আসলে নিজের সাথে প্রতারণা করা ছাড়া আর কিছু নয়। অনেক মুক্তমনাদের ধর্ম-বিরোধী হওয়ার একটা বড় কারণ হল, ধর্মগুলোর মধ্যে বিরাজমান নিষ্ঠুরতা । প্রায় প্রতিটি ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন আয়াত, অধ্যায়, শ্লোক ও বাক্যে  বিধর্মীদের প্রতি এবং কিছু কিছু গ্রন্থে অন্যধর্মালম্বীদের প্রতিও  ঘৃণা প্রকাশ করা হয়েছে , এমনকি কিছু ধর্মে বিধর্মীদের হত্যার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে একপাক্ষিক ভাবে। বাস্তৱ ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় - ধর্ম জঙ্গীবাদ , পারস্পরিক বিবাধ , জ্বিহাদ, দাসত্ব, জাতিভেদ, সাম্প্রদায়িকতা, অ-সহিষ্ণুতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারী নির্যাতন এবং সমঅধিকার হরণের মূল মাধ্যম হিসেবে প্রতিটি যুগেই ব্যবহৃত হচ্ছে । মুক্তমনাদের বৈশিষ্ট...

বিজ্ঞানীদের লেখা বই এবং আমাদের চিন্তা ভাবনা।

মানুষের চিন্তা ভাবনা আজও ধর্মীয় কু-সংস্কারের দ্বারা সীমাবদ্ধ। আমাদের অনেকের চিন্তা ভাবনা এইরকম যে, ইহুদী- খ্রিষ্টান  বা নাস্তিকদের লেখা বই পড়লে আমাদের নাকি ঈমান থাকে না, এইগুলি নাকি বিধর্মীদের লেখা ধর্ম বিরোধী বই । যার দরুন অনেকেই তাদের লেখা বই পড়ে না বা পরতে চাই না । তাই আজও বিগ ব্যাং থিউড়ি, সৃষ্টি তত্ত্ব, জীব তত্ত্ব এবং মানব সভ্যতার বিবর্তনবাদ এর মত অনেক গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়ও অনেকের অজানাই থেকে যাই । বই একটা সু-তথ্যের মাধ্যম, এটা কখনো একজন  মানুষকে পথভ্রষ্ট করে না , যদি কেও বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করে নিজের পথ বদলাই , তবে এটা কখনোই ভ্রষ্ট পথ নই , সু-পথ।