Skip to main content

আমার মৃত্যু, অতঃপর তান্ডব জ্ঞানহীন এই দেহ


আমার হৃদপিণ্ডের পাম্পিং বন্ধ হওয়ার ফলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে, তার পর পরই আমার এই চিন্তাভাবনার সাথে / জ্ঞানের সাথে / বিবেকের সাথে আমার এই দেহের আর কোনো সম্পর্কই থাকিবেনা। তান্ডব জ্ঞানহীন এই দেহ তখন আমার কি দরকার বা কাজে আসবে। এই আমি আমাকেই তখন চিনিবার কোনো উপায়ও থাকিবে না। আমার সমস্ত চিন্তা ভাবনা সমস্ত স্মৃতি, এই জীবনের সমস্ত অভিজ্ঞতা দেহের সাথে সেখানেই শেষ।তখন এটা আগুনে পুড়ালে বাষ্পীয় আকারে বাতাসে মিশে যাবে, পানিতে বাসিয়ে দিলে পানিতে মিলিয়ে যাবে আর মাটি চাপা দিলে মাটিতেই পঁচে গলে একাকার হয়ে যাবে। আর মস্তিষ্কে পচন ধরার সাথে সাথেই পুনরায় বেঁচে ওঠার সমস্ত আকাংখারও সমাপ্তি ঘটিবে । এটাই সত্য , সত্য তিক্ত বা কষ্টকর হলেও সত্য মেনে নেয়াটাই হয়তো সাহসী মানুষদের কাজ।

ব্যাক্তিগতভাবে ইচ্ছাপোষন করি, মৃত্যুর পরে এই শরীরটা কাজে লাগুক।তাই আমি আমার মৃতদেহটা দান করে যাবো জন্মভূমির কোনো এক মেডিকেল কলেজে, যেখানে মেডিকেল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা আমার লাশ কেটে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং পরবর্তীতে জীবিত মানুষের জন্যে নিখুঁতভাবে অস্ত্রপাচারের কৌশল শিখবে। অথবা আমার এই চোখ বা এই শরীরের যাবতীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও যেটাই প্রস্থাপন করা যায় বা কাজে লাগে, অন্য মানুষের প্রয়োজনে, বিনামূল্যে আমি তাও দান করে যেতে প্রবল ভাবে ইচ্ছুক।
বিজ্ঞানের বিপ্লবের এই গ্রহে বেঁচে থাকা কোনো মানুষকে আমার শরীরের কোনো পার্টস এই পৃথিবী উপভূগ করার জন্য দান করে যাওয়া আমার মানবিক দ্বায় বলে মনে হচ্ছে । আমার মৃত্যুর পর আমার এই চোখ দিয়ে কেউ এই পৃথিবী দেখবে বা আমার দেহের কোনো পার্টস দ্বারা কেও না কেও এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে, এর চাইতে আনন্দের মৃত্যু আর কি হতে পারে;


সাদেক মাহমুদ 

Comments

Anonymous said…
Ratan Sarker
Kolkata, India

very nice thinking

Popular posts from this blog

মুহাম্মদ এর স্ত্রীর সংখ্যা ও নাম

মুহাম্মদ সা. ১১ থেকে ১৪ জন নারীকে বিয়ে করেছেন। (এগারোর পরের ৩ জনের এই সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।) নিম্নে তাদের নামের তালিকা দেয়া হল:- ০১.খাদিজা বিনতু খুওয়াইলিদ (৫৯৫-৬১৯): মহানবী ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছরের খাদিজাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন ধনাঢ্য, বুদ্ধিমতি, বিচক্ষণ, বিশ্বাসী, সুন্দরী। তাকে বলা হয়েছে সর্বোত্তম নারী। ০২.সাওদা বিনতে উমর(৬১৯-৬৩২): মহানবী ৫১ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন সুন্দরী, স্বাস্থ্যবতী, দীর্ঘাঙ্গী, অহিংসুক, বিধবা। ০৩.আয়িশা (৬১৯-৬৩২): মহানবী ৫২ বছর বয়সে ৬ বছরের আয়িশাকে বিয়ে করেন। মহানবী তার সাথে দাম্পত্যজীবন শুরু করেন বিয়ের তিন বছর পরে। তিনি ছিলেন খলিফা আবু বকরের কন্যা, প্রজ্ঞা-জ্ঞানবতী, প্রত্যুৎপন্নমতি, স্মৃতিশক্তি ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন, সুন্দরী, উদার ও মহৎ। ০৪.হাফসা বিনতে উমর (৬২৪-৬৩২): মহানবী ৫৪ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন সুন্দরী, গুণবতী, খলিফা ওমরের কন্যা ও বিধবা। ০৫.জয়নব বিনতে খুযায়মা (৬২৫-৬৩২): মহানবী ৫৫ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন বিধাব, নিঃশ্বদের জননী, সুন্দরী। ০৬.উম্মে সালমা হিন্দ বিনতু আবি উমাইয়া (৬২৯-৬৩২): মহানবী ৫৫ বছর বয়সে তাকে ব...

ঈশ্বরের ধর্ম - মাটি ও ঈশ্বর

মাটি  ও ঈশ্বর  মাটি বড়ই দৈর্যশীল একটি সত্তা , মাটিকে মানুষ যতই কাটাকাটি, পিটাপেটি করুকনা কেন মাটি কখনোই মানুষকে এর ফিডব্যাক দেয়না। মাটি মানুষের এই চরম অত্যাচার সহ্য করে আসছে অনন্ত কাল অবদি, এটাই হয়ত মাটির ধর্ম । এই মাটি মানুষকে অনেক কিছু শিখাতেও চায় বিনামূল্যে,বিনাঘামে। মানুষ তাও মানতে চায় না। মানুষ তার নিজস্ব লালিত শিক্ষায় অনড় থাকতেই সাচ্ছন্দ বোধকরে। এতেও মাটির কোনো ফিডব্যাক নেই। মাটির ধর্মই যেন মানুষের নিপীড়ন সহ্য করা। অন্যদিকে ঈশ্বরের ধর্মও মাটির মতই। মানুষ ঈশ্বরকে রূপায়িত করেছে নানা রূপে , একেক জন একেক রূপে তাকে নানা রকম গালাগাল দিচ্ছে। মানুষ ঈশ্বরকে হাজার হাজার ধর্মের দায়িত্ব দিয়ে নিজ  নিজ মতে ভাগাভাগি করলেও তাতেও ঈশ্বরের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ঈশ্বর যেন মাটির ওই অনুসারী। মাটির সাথে ঈশ্বরের অনেকটাই মিল রয়েছে , ঈশ্বরের ধর্ম  ঈশ্বর সর্ব শক্তিমান, সৃষ্টি জগতের মালিক, মানুষের নিয়ন্তা, নেয় বিচারক,পরম করুণাময়  দয়ালু , ক্ষমাকারী, সাহায্যকারী।কিন্ত ব্যাপার হলো, তার এইসব মহান কর্মসাধনের জ...

খুঁতখুঁতে স্বভাবের মানুষ যেমন হয় -

এই গ্রহে এমন কিছু  ব্যাক্তি আছেন যারা অনেক খুঁতখুঁতে। খুঁতখুঁতে বলতে আমি যা বুঝাতে চাইছি তা হলো- সবকিছু একেবারে নিখুঁত না হলে যাদের  মন ভরে না, নিজের সবকিছুই একটা খুঁতহীন অবস্থায় যারা নিয়ে যেতে চাই। সব কিছুতেই যারা একেবারে ১০০% সন্তুষ্টি আশা করে থাকে। অথচ কাউকেই ব্যক্তিজীবনে কোনো কাজে ১% ও বিশ্বাস করতে পারে না, এবং সবার ক্ষেত্রেই একটা নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা বহন করে।।। এরকম মানুষ ব্যক্তিজীবনে ,কর্মজীবনে, সমাজজীবনে একটা অস্থির লোক হিসেবে গণ্য হয়।  যা তারা নিজে থেকে কখনো টের পাই না। আমার চারপাশে এমন কিছু কিছু লোক দেখি যারা সামনে দিয়ে মশা গেলেই ধরে ফেলে আবার পিছন দিয়ে হাতি গেলেও টের পাই না। শ্রমিকের পেটে লাথি মেরে হুজুরের কাছে সিন্নি পাঠায়। কথাটা আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে, এরা মজুরের টাকা মেরে মাজারে দান করে। এরা দেখা যাই শ্রমিকের ন্যায্য পাওনার বেলায় খুব হিসাবি, অথচ ভোগবিলাসিতার বেলায় চিন্তা থাকেনা একটুও। এরা এইটুক বুঝতে চাই না যে কর্মচারী যদি তার কর্মের সঠিক পুরস্কার পাই তাহলে তার একদিকে যেমন কর্মচারী খুশি থাকে, মন থেকে দুয়া করে অন্য দিকে তার কাজ গুলোও  নিখুঁত ভাবে করতে চেষ...