Skip to main content

বর্তমান সময়ে দেশে কেনো বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে?

ডিভোর্স
বিবাহ বিচ্ছেদ - ডিভোর্স 

এর কিছু বাস্তবিক কারণ ও প্রেক্ষাপট -

ধর্মান্ধ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা:

বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবার ই ধর্মান্ধ এবং পুরুষতান্ত্রিক, এখানে ধর্ম এবং পুরুষতন্ত্রের আদলে গড়ে উঠা সমাজ এই আধুনিক সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও নারীদের গৃহ বন্ধী ও কোণঠাসা করে রাখতে চায়। কিছু পরিবার শুধুই যে কোণঠাসা করে রাখে এমনটাই নয় শুধু, বরং সেখানের ধর্মান্ধ পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় নারীর উপর, নারীকে তার হুকুমের গোলাম তথা দাসি বানিয়ে রাখতে চায়।


একটি অপ্রিয় বাস্তবতা হচ্ছে বেশিরভাগ পুরুষই যৌনতায় এক নারীতে বেশিদিন সন্তুষ্ট থাকতে পারেন না, নারী যত সুন্দরীই হোক না কেনো, তার প্রতি অনীহা আসেই। বিয়ের কিছুদিন বা কয়েকমাস পরেই নিজের বউয়ের প্রতি কামভাব কমতে থাকে, তখন দেখা যায় যে পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ তার কর্তৃত্বের বলে নারীর উপর অবজ্ঞা অবহেলা সহ সরব কিংবা নীরব শারীরিক মানসিক নির্যাতন চালায়, যেটা বাহির থেকে কেউ দেখে না, দেখতে পায় না। ফলে নারীরা এইসব পুরুষতান্ত্রিক স্বামীর সাথে সংসার করতে অতিষ্ট হয়ে উঠে।


বর্তমানে মেয়েরা পড়াশুনা করে পৃথিবীকে জানতেছে, বুঝতেছে, এবং সচেতন হচ্ছে। তাঁরা এখন আর আগের মত মুখ বুঁজে সব কিছু সহ্য করে না, তারা মুখ ফুটে নিজেদের অধিকারের কথা বলতে শিখেছে। এখন তারা আধুনিক যুগের আলোকে ঘুরে দাড়াচ্ছে, নিজের প্রতি ধর্মান্ধ পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলছে, প্রতিবাদ করছে।


বাস্তবতা এটাই যে ধর্মান্ধ সমাজে নারীরা যত শিক্ষিত এবং সচেতন হবে, ততই বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়বে।


তবে কি নারীরা শিক্ষিত স্বাবলম্বী সচেতন হবে না? অবশ্যই হতে হবে। একটি জনবহুল গরীব এবং উন্নয়নশীল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে নারী পুরুষের সমান তালে এগিয়ে যাওয়া নিশ্চিত হতেই হবে। এই যুগে একটি সুস্থ স্বাভাবিক সংসার নিশ্চিত করতে হলে এখনকার পুরুষদের ধর্মের নামে, সামাজিকতার নামে, বা কোন প্রাচীন প্রথার নামে নারীদের নিজের দাসী বানিয়ে রাখার মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একজন মূর্খ নিরক্ষর ধর্মান্ধ নারী তার স্বামীকে প্রভু হিসেবে মেনে নিলেও একজন স্ব শিক্ষিত নারী চায় বন্ধুসুল্ভ একজন স্বামী। এটিই স্বাভাবিক হওয়া উচিত, কেউ কারো দাসত্ব কেনইবা মেনে নিবে। সুতরাং নারীকে নিজের থেকে ছোট, গৃহকর্মী কিংবা দাসী নয়, নিজের সমকক্ষ মানুষ ভাবতে শিখুন, বন্ধু ভাবতে শিখুন, সংসার সুন্দর হবে।


সোশ্যাল মিডিয়া:

আমরা আজকাল কমবেশি সবাই এটার সাথে জড়িত। অনেকেই আসক্ত হয়ে পড়েন সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি কিংবা নিউজ স্ক্রলিংএ। অনেকেই এই আসক্তির মাধ্যমে পরিবারের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন। চোখ ধাঁধানো নানান পেজে গ্রুপে ফাঁদে কেউ কেউ ডুবে যাচ্ছেন, ভুলে যাচ্ছেন বাস্তবতা। ফলে বাস্তব জীবনে কেউ কাউকে সময় দিচ্ছে না।


বর্তমানে যুগের অন্য আরেকটি খারাপ দিক হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহজেই সম্পর্ক-স্থাপন করা যায়। ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার-হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো ইত্যাদি সহজলভ্য হওয়ায় সবাই অতি সহজেই পেয়ে যাচ্ছে নতুন সঙ্গী। ফলে পরকীয়ায় জড়িয়ে যাচ্ছে অনেক নারী-পুরুষ। গড়ে তুলছে এক্সট্রা সম্পর্ক, যেখানে অন্য পুরুষ বা নারীতে আসক্তি সংসারে অশান্তি-অবিশ্বাস নিয়ে আসছে৷ একসময় উভয়পক্ষ এর থেকে পরিত্রানের শান্তিপূর্ণ পথ হিসেবে বিবাহবিচ্ছেদকে বেছে নেয়।


অর্থসঙ্কট:

বর্তমান যুগে একটি সুখি সংসার নিয়ে টিকে থাকতে হলে অর্থের গুরুত্ব অপরিশিম। ‘‘কথায় আছে, অভাব যখন দরজা দিয়ে ঢুকে, ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়।‘’ কথাটি একেবারে ফেলে দেওয়ার মত নয়। বর্তমানে সময়ে বিবাহিতদের অস্বচ্ছলতায় সংসারে অভাব-অনটন এবং এর ফলে ঘটা কথা কাটাকাটি ও অশান্তির কারনেও অনেক ডিভোর্স হচ্ছে।


সুস্থ যৌনতার তাড়না:

দাম্পত্য জীবনে যৌনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। বিয়ের পর সুস্থ যৌনতার অভাবেও অনেক ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে থাকে। দেখা যায় যে, পারিবারিক ভাবে দুজন অপরিচিত নারী-পুরুষের বিয়ে হয়, যেখানে দুজন মানুষের যৌন চাহিদা ও যৌনতার বৈশিষ্ট্য প্রায় বিপরীত মুখি হওয়ার ফলে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এক্ষেত্রে সমাধান হতে পারে বিয়ের আগে জেনে শুনে বুঝে দুজনের মন মানসিকতার মিল দেখে দাম্পত্য জীবনে ঝরানো।


আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী, শারীরিক-মানসিক ভাবে সুস্থ এবং যথেষ্ট ধৈর্য-সহ্যের অধিকারী না হইয়ে, হুট করে বিবাহ করাকে না বলুন।

Comments

Popular posts from this blog

An fool elephent

free your minds A huge elephant was tied with a short/slim and thin rope. There wasn't any chain and cage.It was a surprise when one boy went on the road and this is surprised him this fact. His thinking is that elephants can slit this rope one by on easy. It does not matter to him.The boy asked the elephant trainer what was the event! Why doesn't the elephant run away from the ropes?The trainer said, "When they were young, they were tied in a slim rope that would have been competent to t ied theirs. It was a good fit for them. In the absence of a again and again effort, this rope could not be slit by an elephant, it seems to him that it will never be possible to him. So still this is have her mind is as strong as the previous rope... But, if we tried again, we could have slit the rope of failure! So where everyone will stop, we will have to start from there.Stopped means losing.Like this elephant we don't do any any effort after repeated failures of ...

চরিত্র, লজ্জা ও যৌনতা

#চরিত্র নম্রতা, ভদ্রতা, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, শালীনতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, মানুষের প্রতি সম্মানবোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, মিতব্যয়িতা ইত্যাদি গুণাবলী যে ব্যক্তির মধ্যে থাকবে সেই ব্যক্তিই সুন্দর, ভালো এবং সৎচরিত্রের অধিকারী। আবার, মিথ্যা বলা, প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতা, লোভ, পরনিন্দা, ওয়াদা ভঙ্গ এসব বৈশিষ্ট্য যাদের মাঝে বিদ্যমান তারাই অসৎচরিত্রের অধিকারী এবং চরিত্রহীন। #লজ্জা সবাই বলে লজ্জা হলো নারীর ভুষণ, তাহলে পুরুষের ভূষণ কি? নিন্দা ও সমালোচনার ভয়ে কোন দূষণীয় কাজ করতে মানুষের মধ্যে যে জড়ত্ববোধ / দ্বিধাবোধ হয়ে থাকে সেটাকে বলে লজ্জা বা হায়া। তা হলে লজ্জা শুধুই নারীর ভূষণ হতে যাবে কেন? নারীকে বন্দী করার জন্যে যত রকমের ফন্ধী ও শব্দের প্রয়োজন পুরুষ মানুষ তা প্রয়োগ করেছে, যা স্বপুরুষ এর জন্যে আরেক লজ্জার ব্যাপার। এটা ভাবার সময় হয়ত পূরুষ জাতির নেই । অনেকে বলে- এ র কম যে, এই ছেলেটা চরিত্রহীন আর এই মেয়েটার লজ্জা নাই। এই লজ্জা আর চরিত্রের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? চিন্তা করে আমরা দেখি কখনো? ছেলেটা যদি কোন মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব করে আর যদি মেয়েটি প্রত্যাক্ষান করে তখনি বলি ছেলেটা চর...

কে কার নিয়ন্তা, মানুষের বহুরূপী মতবাদ।

আস্তিক্যবাদ - ঈশ্বর সকল কিছুর নিয়ন্তা। নাস্তিক্যবাদ - প্রকৃতিই সকল কিছুর নিয়ন্তা। যুক্তিবাদ - মানুষ বা মানুষের কর্ম ক্রিয়াই নিয়ন্তা। সংশয়বাদ - নিশ্চিৎ নই কে কার নিয়ন্তা । অজ্ঞেয়বাদ - ঈশ্বরবাদ , নিরীশ্বরবাদ, যুক্তিবাদ, প্রকৃতিবাদে কৌতুহল নেই; এগুলি জানি না, প্রয়োজনও ভাবি না। মনোবিজ্ঞান - আপন মস্তিষ্কই নিজস্ব নিয়ন্তা। বিজ্ঞান - অনু ,পরমানু তথা পদার্থের চরিত্র ধর্ম ই নিয়ন্তা। গ্রহরত্নবাদ - গ্রহ,নক্ষত্রই ত সর্ব নাটের গুরু । বিবর্তনবাদ - পরষ্পর নিয়ন্ত্রনাধীন  প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটছে, বিবর্তন ই প্রকৃতির ধর্ম , নিয়ন্তা থাকতে ই পারে। মুক্তমনা - আমার নিয়ন্তা আমিই, কারো প্রয়জন পরে না আমাকে নিয়ন্ত্রণের। আমার বাখ্যা ভূলও হতে পারে, পাঠক সমাজ শুদ্রে নিবেন নাহয়।