Skip to main content

মূর্খ বর্বরদের সমাজে সত্য বরাবরই অশ্লীল, তেতু আর বিরক্তির অসহনীয় যানজট।

মূর্খ বর্বরদের সমাজে সত্য বরাবরই অশ্লীল, তেতু আর বিরক্তির অসহনীয় যানজট।

ধরুন আপনার নিকট আত্মীয় তীব্র ভাবে জ্বীন ভুত,
বান মা!রা, বশ করা এইসব কবিরাজ তন্ত্রে বিশ্বাসী। এবং সে একজন কবিরাজকে আপনার সামনেই ১০০০ টাকা দিয়েছে তার কাজে সুফল পাওয়ার জন্যে, বা কাউকে বশ করার জন্যে। এখন আপনি ভালো ভাবেই জানেন যে কবিরাজের কোনো ক্ষমতা নাই তাকে বা তার কাজে সুফল বয়ে দেওয়ার। এখন যদি আপনি তাকে কবিরাজি কাজে আসবে না, এই এইসব ভুয়া এটা বলতে যান, দেখবেন সে আপনার প্রতি রাগান্বিত হবে এবং বিষন্ন বোধ করবে। আর যদি তার সাথে আপনি তাল দিয়ে বলেন যে এইবার সাকসেস ঠেকাই কে। দেখবেন গদ গদ হাসিতে সে আপনার প্রতি ভালো বোধ করে চলেছে।
- ধরুন আপনার বন্ধুর স্ত্রী বা প্রেমিকা আপনার সামনে অন্য আরেক জনের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ায় যা আপনি স-চক্ষে দেখেন, জানেন। এখন যদি এটা আপনার বন্ধুকে আপনি বলতে যান। সে কোনোভাবেই এখানে আপনার প্রতি ভালো বোধ করবে না। আর যদি বলেন যে দুস্থ তোর স্ত্রী/প্রেমিকা অনেক সৎ, একমাত্র সহি নারী। দেখবেন সে আপনার প্রতি ভালো বোধ করবে।
বা ধরুন আপনার কাছের বান্ধবী আপনার আরেক লুচ্চা বদমাইশ নারিখোর ছেলে বন্ধুর সাথে মিশতেছে, যেই ছেলে সম্পর্কে আপনি ভালো করেই জানেন। অতএব ছেলেটি তাকে লাগানোর জন্যে রাত দিন ভালোবাসার অভিনয় করে যাচ্ছে আপনার বান্ধুবির সাথে। আপনি যদি এটা ট্যার পেয়ে আপনার বান্ধবীকে তা বলতে যান, দেখবেন কিভাবে সে আপনাকে ভূল বুঝে বসে। আর যদি বলেন যে, মাম্মা কেমন চলতেছে রিলেশন, ট্রিট দিবি কবে অ্যা। সুলতান ডাইনে খাওয়াইতে হইবো এইবার। দেখবেন কি যে নটির মত হাসিখুশি সে আপনার সাথে।
- ধরুন কেও একটা মানহীন কমদামী জামা বেশি দাম দিয়ে মার্কেট থেকে কিনে আনছে, আপনাকে যদি বলে সে যে এটা কেমন হয়েছে। আপনি যদি বলেন যে এটা কমদামী ননব্রান্ড মান খারাপ হ্যানত্যান, দেখবেন যে সে আপনার সামনেই বিরক্ত বোধ দেখাবে। আর যদি বলেন যে, আরে মামা সুন্দর কাপড় ত, কত দিয়ে কিনছ, একদম ফাটাফাটি হইছে। দেখবেন আপনার প্রতি ভালো বোধ করছে।
- ধরুন আপনার এক বন্ধু ১৫ বছরের এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে বিয়ে করতে চলেছে। এখন যদি আপনি তাকে বাল্য বিবাহের কুফল, সন্তান জন্মে সমস্যা, গর্ভপাত, সন্তান এর শারীরিক গঠনের সমস্যা হবে ইত্যাদি বর্ণনা করেন দেখবেন একেবারে সে আপনার প্রতি বিরক্ত বোধ দেখাচ্ছে। আর যদি তার সাথে তাল মিলিয়ে বলেন - আরে মাম্মা সেই হবে সেই, কচি মাল, ভার্জিন, ইন্টেক্ট একদম অরিজিনাল ফিলিংস পাইবা। দেখবেন সে গদ গদ অট্ট হাসিতে আপনার প্রতি ভালো বোধের প্রকাশ করবে।
- ধরুন, আপনি এই মুহূর্তে আফ্রিকার কোনো এক দেশের এমন একটি সমাজে আছেন, যেখানে মানুষের প্রাথমিক শিক্ষা টুকুও নেই।
আপনি যদি সেখানে বলেন যে "সূর্য নয় বরং পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে"। আপনাকে তারা পাগল আখ্যা দিবে, বা উক্ত কথা যদি তাদের কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক রীতির বিরোদ্ধে যায় তাহলে এমনকি আপনার প্রাণ হানি কিংবা আপনার জন্যে কোনো কঠিন বিচারের ব্যবস্থাও হইতে পারে।
যেমন ধরুন আমার মত কোনো ধার্মিক ব্যক্তিকে যদি আপনি মানব জাতীর উৎপত্তির ইতিহাস বিবর্তনবাদ বুঝাতে যান তাহলে তিনি এটিকে অস্বীকার করবে কিংবা ধর্মের দোহাই দিয়ে এটাকে স্কিপ করে যাবে।
কিন্তু যদি বলেন যে প্রথমে মাটি দিয়ে দুজন মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং দুজন মানুষ থেকে বাপ-মা ভাই-বোন, মা-ছেলে, বাপ-মেয়ে ফ্যামিলি সে!*ক্স করে বিশ্বব্যাপী মানব জাতীর এই বিস্তার ঘটেছে তাহলে দেখবেন সে এটাই বিশ্বাস করবে এবং আপনাকে একজন নৈতিক এবং ভালো মানুষ হিসেবে মেনে নিবে।

Comments

Popular posts from this blog

মুহাম্মদ এর স্ত্রীর সংখ্যা ও নাম

মুহাম্মদ সা. ১১ থেকে ১৪ জন নারীকে বিয়ে করেছেন। (এগারোর পরের ৩ জনের এই সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।) নিম্নে তাদের নামের তালিকা দেয়া হল:- ০১.খাদিজা বিনতু খুওয়াইলিদ (৫৯৫-৬১৯): মহানবী ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছরের খাদিজাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন ধনাঢ্য, বুদ্ধিমতি, বিচক্ষণ, বিশ্বাসী, সুন্দরী। তাকে বলা হয়েছে সর্বোত্তম নারী। ০২.সাওদা বিনতে উমর(৬১৯-৬৩২): মহানবী ৫১ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন সুন্দরী, স্বাস্থ্যবতী, দীর্ঘাঙ্গী, অহিংসুক, বিধবা। ০৩.আয়িশা (৬১৯-৬৩২): মহানবী ৫২ বছর বয়সে ৬ বছরের আয়িশাকে বিয়ে করেন। মহানবী তার সাথে দাম্পত্যজীবন শুরু করেন বিয়ের তিন বছর পরে। তিনি ছিলেন খলিফা আবু বকরের কন্যা, প্রজ্ঞা-জ্ঞানবতী, প্রত্যুৎপন্নমতি, স্মৃতিশক্তি ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন, সুন্দরী, উদার ও মহৎ। ০৪.হাফসা বিনতে উমর (৬২৪-৬৩২): মহানবী ৫৪ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন সুন্দরী, গুণবতী, খলিফা ওমরের কন্যা ও বিধবা। ০৫.জয়নব বিনতে খুযায়মা (৬২৫-৬৩২): মহানবী ৫৫ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন বিধাব, নিঃশ্বদের জননী, সুন্দরী। ০৬.উম্মে সালমা হিন্দ বিনতু আবি উমাইয়া (৬২৯-৬৩২): মহানবী ৫৫ বছর বয়সে তাকে ব...

ঈশ্বরের ধর্ম - মাটি ও ঈশ্বর

মাটি  ও ঈশ্বর  মাটি বড়ই দৈর্যশীল একটি সত্তা , মাটিকে মানুষ যতই কাটাকাটি, পিটাপেটি করুকনা কেন মাটি কখনোই মানুষকে এর ফিডব্যাক দেয়না। মাটি মানুষের এই চরম অত্যাচার সহ্য করে আসছে অনন্ত কাল অবদি, এটাই হয়ত মাটির ধর্ম । এই মাটি মানুষকে অনেক কিছু শিখাতেও চায় বিনামূল্যে,বিনাঘামে। মানুষ তাও মানতে চায় না। মানুষ তার নিজস্ব লালিত শিক্ষায় অনড় থাকতেই সাচ্ছন্দ বোধকরে। এতেও মাটির কোনো ফিডব্যাক নেই। মাটির ধর্মই যেন মানুষের নিপীড়ন সহ্য করা। অন্যদিকে ঈশ্বরের ধর্মও মাটির মতই। মানুষ ঈশ্বরকে রূপায়িত করেছে নানা রূপে , একেক জন একেক রূপে তাকে নানা রকম গালাগাল দিচ্ছে। মানুষ ঈশ্বরকে হাজার হাজার ধর্মের দায়িত্ব দিয়ে নিজ  নিজ মতে ভাগাভাগি করলেও তাতেও ঈশ্বরের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ঈশ্বর যেন মাটির ওই অনুসারী। মাটির সাথে ঈশ্বরের অনেকটাই মিল রয়েছে , ঈশ্বরের ধর্ম  ঈশ্বর সর্ব শক্তিমান, সৃষ্টি জগতের মালিক, মানুষের নিয়ন্তা, নেয় বিচারক,পরম করুণাময়  দয়ালু , ক্ষমাকারী, সাহায্যকারী।কিন্ত ব্যাপার হলো, তার এইসব মহান কর্মসাধনের জ...

খুঁতখুঁতে স্বভাবের মানুষ যেমন হয় -

এই গ্রহে এমন কিছু  ব্যাক্তি আছেন যারা অনেক খুঁতখুঁতে। খুঁতখুঁতে বলতে আমি যা বুঝাতে চাইছি তা হলো- সবকিছু একেবারে নিখুঁত না হলে যাদের  মন ভরে না, নিজের সবকিছুই একটা খুঁতহীন অবস্থায় যারা নিয়ে যেতে চাই। সব কিছুতেই যারা একেবারে ১০০% সন্তুষ্টি আশা করে থাকে। অথচ কাউকেই ব্যক্তিজীবনে কোনো কাজে ১% ও বিশ্বাস করতে পারে না, এবং সবার ক্ষেত্রেই একটা নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা বহন করে।।। এরকম মানুষ ব্যক্তিজীবনে ,কর্মজীবনে, সমাজজীবনে একটা অস্থির লোক হিসেবে গণ্য হয়।  যা তারা নিজে থেকে কখনো টের পাই না। আমার চারপাশে এমন কিছু কিছু লোক দেখি যারা সামনে দিয়ে মশা গেলেই ধরে ফেলে আবার পিছন দিয়ে হাতি গেলেও টের পাই না। শ্রমিকের পেটে লাথি মেরে হুজুরের কাছে সিন্নি পাঠায়। কথাটা আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে, এরা মজুরের টাকা মেরে মাজারে দান করে। এরা দেখা যাই শ্রমিকের ন্যায্য পাওনার বেলায় খুব হিসাবি, অথচ ভোগবিলাসিতার বেলায় চিন্তা থাকেনা একটুও। এরা এইটুক বুঝতে চাই না যে কর্মচারী যদি তার কর্মের সঠিক পুরস্কার পাই তাহলে তার একদিকে যেমন কর্মচারী খুশি থাকে, মন থেকে দুয়া করে অন্য দিকে তার কাজ গুলোও  নিখুঁত ভাবে করতে চেষ...