Skip to main content

দেশের আদর্শ রাজনীতির অধপতন।

যেই মাঠ থেকে এসেছিল স্বাধীনতার ডাক, সেই মাঠের শব্দ শুনে আজ হতবাক।


মাত্র ৫ বছর আগে শফি হুজুর ছিলেন পাকিস্তানের দালাল, মেয়েদের তেঁতুলের সাথে তুলনা করায় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনার বস্তু , ৫ই মে ২০১৩ তে কওমী মাদ্রাসার ছেলেদের মতিঝিলে পুলিশ দিয়ে সরকার লাঠিপেটা করেছিল। সম্প্রতি আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগের নেতারা কিভাবে দিনরাত হেফাজত-কে গালি দিতো। 
ভেবেছিলাম এই হেফাজতের বিপক্ষে আওয়ামী লীগ থাকবে, হেফাজত-কেও নিষিদ্ধ করবে জামায়াতের মত।
৫ বছর পরে শফি হুজুর হাসিনার পাশে বসেই সমাবেশ করলেন, সংবর্ধনা পেলেন এবং 'কওমী মাদ্রাসার জননী' উপাধি পেলেন। যে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা বলতেন 'তেঁতুল হুজুর', তারাই বললেন যে এমন অসম্মানজনক কথা আর বলা যাবে না । 

রাজনীতিতে শেখ হাসিনা কি জিতবেন ?
হয়তো আপাতত।
কিন্ত এইভাবে আদর্শ বিকিয়ে ভোট পাওয়া বা ক্ষমতাই থাকা যায় কিনা আসলে জানা নেই। 
তবে তিনি তার বাবার আদর্শ হারালেন চিরকালের জন্য।
মুজিব পরিবারের গৌরব মাটিতে মিশিয়ে দিলেন ক্ষমতায় থাকার জন্য।
সম্প্রতি আমরা দেখেছি বিএনপি জামায়াতের সাথে জোট বাধতো বলে আওয়ামী লীগ চিরকাল অপবাদ দিত বিএনপি'কে পকিস্তানপন্থী বলে। কিন্ত আজ?
হেফাজতের সাথে জামায়াতের পার্থক্য কোথায়, এরাও চায় শরিয়া আইন, তারাও চায় অমুসলিম'দের দেশ থেকে তাড়াতে, তাহলে পার্থক্য কোথায় হলো ?
এটাই কি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ?
এটাই কি একটি সেক্যুলার কান্ট্রির চরিত্র ?

আওয়ামিলীগ এই শতভাগ ভোটের জন্যে দলকে বদলে ফেললে সেই বদলে যাওয়া আওয়ামিলীগ'কে সমর্থন করার কিছু নেই, চরিত্রহীন রাজনীতি হিসেবেই পরিচিতি পাবে সাধারণ মানুষের কাছে।

আজ হতভম্ব হওয়া ছাড়া কিছুই বলার নেই, এদেশ আমার না, এদেশ আর সবার না, এদেশ এখন একান্তই দুর্নীতিবাজ আর মৌলবাদের ।

Comments

Popular posts from this blog

মুহাম্মদ এর স্ত্রীর সংখ্যা ও নাম

মুহাম্মদ সা. ১১ থেকে ১৪ জন নারীকে বিয়ে করেছেন। (এগারোর পরের ৩ জনের এই সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।) নিম্নে তাদের নামের তালিকা দেয়া হল:- ০১.খাদিজা বিনতু খুওয়াইলিদ (৫৯৫-৬১৯): মহানবী ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছরের খাদিজাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন ধনাঢ্য, বুদ্ধিমতি, বিচক্ষণ, বিশ্বাসী, সুন্দরী। তাকে বলা হয়েছে সর্বোত্তম নারী। ০২.সাওদা বিনতে উমর(৬১৯-৬৩২): মহানবী ৫১ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন সুন্দরী, স্বাস্থ্যবতী, দীর্ঘাঙ্গী, অহিংসুক, বিধবা। ০৩.আয়িশা (৬১৯-৬৩২): মহানবী ৫২ বছর বয়সে ৬ বছরের আয়িশাকে বিয়ে করেন। মহানবী তার সাথে দাম্পত্যজীবন শুরু করেন বিয়ের তিন বছর পরে। তিনি ছিলেন খলিফা আবু বকরের কন্যা, প্রজ্ঞা-জ্ঞানবতী, প্রত্যুৎপন্নমতি, স্মৃতিশক্তি ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন, সুন্দরী, উদার ও মহৎ। ০৪.হাফসা বিনতে উমর (৬২৪-৬৩২): মহানবী ৫৪ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন সুন্দরী, গুণবতী, খলিফা ওমরের কন্যা ও বিধবা। ০৫.জয়নব বিনতে খুযায়মা (৬২৫-৬৩২): মহানবী ৫৫ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন বিধাব, নিঃশ্বদের জননী, সুন্দরী। ০৬.উম্মে সালমা হিন্দ বিনতু আবি উমাইয়া (৬২৯-৬৩২): মহানবী ৫৫ বছর বয়সে তাকে ব...

ঈশ্বরের ধর্ম - মাটি ও ঈশ্বর

মাটি  ও ঈশ্বর  মাটি বড়ই দৈর্যশীল একটি সত্তা , মাটিকে মানুষ যতই কাটাকাটি, পিটাপেটি করুকনা কেন মাটি কখনোই মানুষকে এর ফিডব্যাক দেয়না। মাটি মানুষের এই চরম অত্যাচার সহ্য করে আসছে অনন্ত কাল অবদি, এটাই হয়ত মাটির ধর্ম । এই মাটি মানুষকে অনেক কিছু শিখাতেও চায় বিনামূল্যে,বিনাঘামে। মানুষ তাও মানতে চায় না। মানুষ তার নিজস্ব লালিত শিক্ষায় অনড় থাকতেই সাচ্ছন্দ বোধকরে। এতেও মাটির কোনো ফিডব্যাক নেই। মাটির ধর্মই যেন মানুষের নিপীড়ন সহ্য করা। অন্যদিকে ঈশ্বরের ধর্মও মাটির মতই। মানুষ ঈশ্বরকে রূপায়িত করেছে নানা রূপে , একেক জন একেক রূপে তাকে নানা রকম গালাগাল দিচ্ছে। মানুষ ঈশ্বরকে হাজার হাজার ধর্মের দায়িত্ব দিয়ে নিজ  নিজ মতে ভাগাভাগি করলেও তাতেও ঈশ্বরের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ঈশ্বর যেন মাটির ওই অনুসারী। মাটির সাথে ঈশ্বরের অনেকটাই মিল রয়েছে , ঈশ্বরের ধর্ম  ঈশ্বর সর্ব শক্তিমান, সৃষ্টি জগতের মালিক, মানুষের নিয়ন্তা, নেয় বিচারক,পরম করুণাময়  দয়ালু , ক্ষমাকারী, সাহায্যকারী।কিন্ত ব্যাপার হলো, তার এইসব মহান কর্মসাধনের জ...

খুঁতখুঁতে স্বভাবের মানুষ যেমন হয় -

এই গ্রহে এমন কিছু  ব্যাক্তি আছেন যারা অনেক খুঁতখুঁতে। খুঁতখুঁতে বলতে আমি যা বুঝাতে চাইছি তা হলো- সবকিছু একেবারে নিখুঁত না হলে যাদের  মন ভরে না, নিজের সবকিছুই একটা খুঁতহীন অবস্থায় যারা নিয়ে যেতে চাই। সব কিছুতেই যারা একেবারে ১০০% সন্তুষ্টি আশা করে থাকে। অথচ কাউকেই ব্যক্তিজীবনে কোনো কাজে ১% ও বিশ্বাস করতে পারে না, এবং সবার ক্ষেত্রেই একটা নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা বহন করে।।। এরকম মানুষ ব্যক্তিজীবনে ,কর্মজীবনে, সমাজজীবনে একটা অস্থির লোক হিসেবে গণ্য হয়।  যা তারা নিজে থেকে কখনো টের পাই না। আমার চারপাশে এমন কিছু কিছু লোক দেখি যারা সামনে দিয়ে মশা গেলেই ধরে ফেলে আবার পিছন দিয়ে হাতি গেলেও টের পাই না। শ্রমিকের পেটে লাথি মেরে হুজুরের কাছে সিন্নি পাঠায়। কথাটা আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে, এরা মজুরের টাকা মেরে মাজারে দান করে। এরা দেখা যাই শ্রমিকের ন্যায্য পাওনার বেলায় খুব হিসাবি, অথচ ভোগবিলাসিতার বেলায় চিন্তা থাকেনা একটুও। এরা এইটুক বুঝতে চাই না যে কর্মচারী যদি তার কর্মের সঠিক পুরস্কার পাই তাহলে তার একদিকে যেমন কর্মচারী খুশি থাকে, মন থেকে দুয়া করে অন্য দিকে তার কাজ গুলোও  নিখুঁত ভাবে করতে চেষ...