Skip to main content

চরিত্র, লজ্জা ও যৌনতা


#চরিত্র
নম্রতা, ভদ্রতা, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, শালীনতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, মানুষের প্রতি সম্মানবোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, মিতব্যয়িতা ইত্যাদি গুণাবলী যে ব্যক্তির মধ্যে থাকবে সেই ব্যক্তিই সুন্দর, ভালো এবং সৎচরিত্রের অধিকারী।
আবার, মিথ্যা বলা, প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতা, লোভ, পরনিন্দা, ওয়াদা ভঙ্গ এসব বৈশিষ্ট্য যাদের মাঝে বিদ্যমান তারাই অসৎচরিত্রের অধিকারী এবং চরিত্রহীন।
#লজ্জা
সবাই বলে লজ্জা হলো নারীর ভুষণ,
তাহলে পুরুষের ভূষণ কি?
নিন্দা ও সমালোচনার ভয়ে কোন দূষণীয় কাজ করতে মানুষের মধ্যে যে জড়ত্ববোধ / দ্বিধাবোধ হয়ে থাকে সেটাকে বলে লজ্জা বা হায়া।
তা হলে লজ্জা শুধুই নারীর ভূষণ হতে যাবে কেন?
নারীকে বন্দী করার জন্যে যত রকমের ফন্ধী ও শব্দের প্রয়োজন পুরুষ মানুষ তা প্রয়োগ করেছে,
যা স্বপুরুষ এর জন্যে আরেক লজ্জার ব্যাপার।
এটা ভাবার সময় হয়ত পূরুষ জাতির নেই ।
অনেকে বলে- একম যে,
এই ছেলেটা চরিত্রহীন আর এই মেয়েটার লজ্জা নাই।
এই লজ্জা আর চরিত্রের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
চিন্তা করে আমরা দেখি কখনো?
ছেলেটা যদি কোন মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব করে আর যদি মেয়েটি প্রত্যাক্ষান করে তখনি বলি ছেলেটা চরিত্রহীন।
আবার কোন মেয়ে যদি কোন ছেলে কে প্রেমের প্রস্তাব দেয় আর যদি প্রত্যাক্ষান হয় তখনি মেয়েটাকে র্নিলজ্জ বলি।
এই কথা গুলো আসলে মানুষকে তার মনের ভাষা প্রকাশের বাঁধা দেবার জন্যই তৈরী।
অথচ পারিবারিক ভাবে যদি এমন প্রস্তাব গুলো আসে তখন এই শব্দ গুলোর প্রয়োজন হয় না।
মানুষ মানুষ কে পছন্দ করতেই পারে আবার বিপরীত পক্ষের পছন্দ নাও হতে পারে, সেখানে এমন শব্দ গুলোর প্রয়োগের বিশেষত্ব বা কি?
এমন শব্দগুলো যারা প্রয়োগ করে, তারাও এর কোন বিশেষত্ব খুঁজে পেয়েছে কি না বা পাবে কিনা ভবিষ্যতে আদো আমার জানা নাই।
#যৌনতা
যৌন চাহিদা মানুষের জন্মগত প্রাকৃতিক অধিকার, সেই অধীকার খর্ব করা মানে তার জীবনের একটা দিকের বিরাট ক্ষতি করা।
শুধু কি যৌনতাই চরিত্রহীন বানায়?
আর অসততা, প্রতারণা, দুর্নীতি বা এরকম  কাজগুলি বানায় না ? বানায়।
তাহলে,
শুধুই যৌনতার উপর মানুষের চরিত্রের মাপকাঠি হতে পারে না। চরিত্রের মাপকাঠি হতে হবে, সৎ - অসৎ, ন্যায় - অন্যায়ের মাপ কাঠির উপরে।
যারা যৌনতার উপর চরিত্রগত মাপকাঠি পরিমাপ করে, তারা আসলে অতৃপ্ত যৌবনের অধীকারি, প্রকৃতির ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।
ছোট বেলার বই এর গল্পের লেজ কাটা শেয়াল এর মত।

Comments

Popular posts from this blog

মুহাম্মদ এর স্ত্রীর সংখ্যা ও নাম

মুহাম্মদ সা. ১১ থেকে ১৪ জন নারীকে বিয়ে করেছেন। (এগারোর পরের ৩ জনের এই সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।) নিম্নে তাদের নামের তালিকা দেয়া হল:- ০১.খাদিজা বিনতু খুওয়াইলিদ (৫৯৫-৬১৯): মহানবী ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছরের খাদিজাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন ধনাঢ্য, বুদ্ধিমতি, বিচক্ষণ, বিশ্বাসী, সুন্দরী। তাকে বলা হয়েছে সর্বোত্তম নারী। ০২.সাওদা বিনতে উমর(৬১৯-৬৩২): মহানবী ৫১ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন সুন্দরী, স্বাস্থ্যবতী, দীর্ঘাঙ্গী, অহিংসুক, বিধবা। ০৩.আয়িশা (৬১৯-৬৩২): মহানবী ৫২ বছর বয়সে ৬ বছরের আয়িশাকে বিয়ে করেন। মহানবী তার সাথে দাম্পত্যজীবন শুরু করেন বিয়ের তিন বছর পরে। তিনি ছিলেন খলিফা আবু বকরের কন্যা, প্রজ্ঞা-জ্ঞানবতী, প্রত্যুৎপন্নমতি, স্মৃতিশক্তি ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন, সুন্দরী, উদার ও মহৎ। ০৪.হাফসা বিনতে উমর (৬২৪-৬৩২): মহানবী ৫৪ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন সুন্দরী, গুণবতী, খলিফা ওমরের কন্যা ও বিধবা। ০৫.জয়নব বিনতে খুযায়মা (৬২৫-৬৩২): মহানবী ৫৫ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন বিধাব, নিঃশ্বদের জননী, সুন্দরী। ০৬.উম্মে সালমা হিন্দ বিনতু আবি উমাইয়া (৬২৯-৬৩২): মহানবী ৫৫ বছর বয়সে তাকে ব...

ঈশ্বরের ধর্ম - মাটি ও ঈশ্বর

মাটি  ও ঈশ্বর  মাটি বড়ই দৈর্যশীল একটি সত্তা , মাটিকে মানুষ যতই কাটাকাটি, পিটাপেটি করুকনা কেন মাটি কখনোই মানুষকে এর ফিডব্যাক দেয়না। মাটি মানুষের এই চরম অত্যাচার সহ্য করে আসছে অনন্ত কাল অবদি, এটাই হয়ত মাটির ধর্ম । এই মাটি মানুষকে অনেক কিছু শিখাতেও চায় বিনামূল্যে,বিনাঘামে। মানুষ তাও মানতে চায় না। মানুষ তার নিজস্ব লালিত শিক্ষায় অনড় থাকতেই সাচ্ছন্দ বোধকরে। এতেও মাটির কোনো ফিডব্যাক নেই। মাটির ধর্মই যেন মানুষের নিপীড়ন সহ্য করা। অন্যদিকে ঈশ্বরের ধর্মও মাটির মতই। মানুষ ঈশ্বরকে রূপায়িত করেছে নানা রূপে , একেক জন একেক রূপে তাকে নানা রকম গালাগাল দিচ্ছে। মানুষ ঈশ্বরকে হাজার হাজার ধর্মের দায়িত্ব দিয়ে নিজ  নিজ মতে ভাগাভাগি করলেও তাতেও ঈশ্বরের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ঈশ্বর যেন মাটির ওই অনুসারী। মাটির সাথে ঈশ্বরের অনেকটাই মিল রয়েছে , ঈশ্বরের ধর্ম  ঈশ্বর সর্ব শক্তিমান, সৃষ্টি জগতের মালিক, মানুষের নিয়ন্তা, নেয় বিচারক,পরম করুণাময়  দয়ালু , ক্ষমাকারী, সাহায্যকারী।কিন্ত ব্যাপার হলো, তার এইসব মহান কর্মসাধনের জ...

খুঁতখুঁতে স্বভাবের মানুষ যেমন হয় -

এই গ্রহে এমন কিছু  ব্যাক্তি আছেন যারা অনেক খুঁতখুঁতে। খুঁতখুঁতে বলতে আমি যা বুঝাতে চাইছি তা হলো- সবকিছু একেবারে নিখুঁত না হলে যাদের  মন ভরে না, নিজের সবকিছুই একটা খুঁতহীন অবস্থায় যারা নিয়ে যেতে চাই। সব কিছুতেই যারা একেবারে ১০০% সন্তুষ্টি আশা করে থাকে। অথচ কাউকেই ব্যক্তিজীবনে কোনো কাজে ১% ও বিশ্বাস করতে পারে না, এবং সবার ক্ষেত্রেই একটা নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা বহন করে।।। এরকম মানুষ ব্যক্তিজীবনে ,কর্মজীবনে, সমাজজীবনে একটা অস্থির লোক হিসেবে গণ্য হয়।  যা তারা নিজে থেকে কখনো টের পাই না। আমার চারপাশে এমন কিছু কিছু লোক দেখি যারা সামনে দিয়ে মশা গেলেই ধরে ফেলে আবার পিছন দিয়ে হাতি গেলেও টের পাই না। শ্রমিকের পেটে লাথি মেরে হুজুরের কাছে সিন্নি পাঠায়। কথাটা আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে, এরা মজুরের টাকা মেরে মাজারে দান করে। এরা দেখা যাই শ্রমিকের ন্যায্য পাওনার বেলায় খুব হিসাবি, অথচ ভোগবিলাসিতার বেলায় চিন্তা থাকেনা একটুও। এরা এইটুক বুঝতে চাই না যে কর্মচারী যদি তার কর্মের সঠিক পুরস্কার পাই তাহলে তার একদিকে যেমন কর্মচারী খুশি থাকে, মন থেকে দুয়া করে অন্য দিকে তার কাজ গুলোও  নিখুঁত ভাবে করতে চেষ...