Skip to main content

যেমনে মানুষ হওয়া যাই

মানুষের পেটে বা মানুষের ঘরে জন্ম নিলেই সুনিশ্চিৎ হওয়া সম্ভব নয় যে, সবই মানুষ হবে।

সদ্য ভূমিষ্ট কোন শিশুকে জঙ্গলে বা বিশেষ ব্যবস্থায়, মানব-সংস্পর্শহীন এবং হিংস্র কোন প্রাণীর সাথে রাখা গেলে বোঝা যেত, মানুষের ঘরে জন্ম নেয়া কেউ, কেমন করে জানোয়ারে পরিনত হতে পারে।

আমরা সবাই চাই, ধনী গরিব চোর গুন্ডা লুচ্চা বদমাশ এমনকি নিষিদ্ধ পল্লির অসহায় নারীটিও চায় তার সন্তানটি "মানুষ" হোক।

তবে, মানুষ হওয়া কি এবং কেমন?

পারিবারিক সামাজিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা-দিক্ষায় সুশিক্ষিত যোগ্য প্রতিষ্ঠিত কর্মঠ দায়িত্ববান নৈতিক তথা সুনাগরিক হয়ে ওঠাকে সাধারনত "মানুষ হওয়া" বোঝালেও, আরও একটা বিশেষ বিষয় এতে বেশ জড়িয়ে রয়েছে যেটা হলো ধার্মিকতা বা বিশ্বাসী হয়ে মানুষ হওয়া।
যিনি ধার্মিক নন বা বিশ্বাসী নন, তিনি ধার্মিকদের কাছে মানুষ নন!
আবার ধার্মিকতার ভেতরেও নানা কথা, নানা বিষয়, নানা গুন্জন প্রচলিত রয়েছে। কেউ সহি ধার্মিক কেউবা অসহি, কেউ মনে করেন সঠিক ধার্মিক হইতে হইলে গুরু ধরতে হবে, গুরুর মুরিদ হতে হবে। একজন পীরের মুরিদ হতে হবে। কেউ মনে করেন  না। 
গুরু বলেন, " মা ( জননী) ভক্তিহীনা মুক্তি নেই।

বাউল বলেন:- মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি । মানুষ হতে হলে, মানুষকে ভালবাসতে হবে।

ধর্ম বলে:- ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগমান, দেব-দেবীকে কান্ডারী-ভান্ডারী মানতে হবে- দেব দেবিই তোমার মুক্তিদূত। ধর্ম বলছে, আগুনে শুদ্ধ হয়ে মানুষ হও, ধর্ম বলছে- সূর্যই তোমার দেব; মুক্তিদাতা,ত্রাণকর্তা।  অর্থাৎ, গুরু পীর আউলিয়া বা দেব দেবী আগুন সূর্য পাথর পূজা অর্চনা সাধন-ভজন করো যদি শুদ্ধ মানুষ হতে চাও, পরকাল বা স্বর্গ পেতে চাও।

আবার, ভাববাদহীন কোন ধার্মিক বলেন,  ঈশ্বর সব কিছু। গুরুবাদ, ভাববাদে মুরিদপন্থা বাড়তি হঠকারিতা বা শিরক। কেউ বলেন, ঈশ্বরকে সর্বেসর্বা মানতেই হবে, রোজা নামাজ হজ্জ যাকাত চারটি জিনিস সহ। তবে- তোয়াক্কা করতে হবে ঈশ্বরের কোন মেসেন্জারকেও। নইলে তুমি মানুষ নও,  মুর্তাদ - কাফের।

২.
অন্য বিশ্বাসঃ- 
ধর্ম, ধার্মিক, পীর দরবেশ, মেসেন্জার , রোজা নামাজ, হজ্জ, ঈশ্বর- সমগ্র কিছুই অন্ধ বিশ্বাস বা কুসংস্কার মাত্র, যা থেকে তোমাকে বেরুতে হবে, আলোতে আসতে হবে প্রকৃত পূর্নাঙ্গ মানুষ হতে হলে- নিজের মেধা সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে, মানবজাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে, সর্ব জিবে দোয়া দেখাতে হবে, মানুষকে ভালোবাসতে হবে, মানুষের তোরে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে।

অতঃপর, মানুষ হতে চাওয়া মানুষ গুলোও আজ রয়েছে চরম বিপাকে !
তবে, মানুষের উত্তরণের পথও বেশ সহজ।
শিক্ষা চর্চা , মেধা ধারালো করন, বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহন, চিন্তা শক্তির উন্নয়ন করন, নিরপেক্ষতা করন ,মুক্ত চিন্তা আবির্ভাব করন ।

Comments

Popular posts from this blog

মুহাম্মদ এর স্ত্রীর সংখ্যা ও নাম

মুহাম্মদ সা. ১১ থেকে ১৪ জন নারীকে বিয়ে করেছেন। (এগারোর পরের ৩ জনের এই সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।) নিম্নে তাদের নামের তালিকা দেয়া হল:- ০১.খাদিজা বিনতু খুওয়াইলিদ (৫৯৫-৬১৯): মহানবী ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছরের খাদিজাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন ধনাঢ্য, বুদ্ধিমতি, বিচক্ষণ, বিশ্বাসী, সুন্দরী। তাকে বলা হয়েছে সর্বোত্তম নারী। ০২.সাওদা বিনতে উমর(৬১৯-৬৩২): মহানবী ৫১ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন সুন্দরী, স্বাস্থ্যবতী, দীর্ঘাঙ্গী, অহিংসুক, বিধবা। ০৩.আয়িশা (৬১৯-৬৩২): মহানবী ৫২ বছর বয়সে ৬ বছরের আয়িশাকে বিয়ে করেন। মহানবী তার সাথে দাম্পত্যজীবন শুরু করেন বিয়ের তিন বছর পরে। তিনি ছিলেন খলিফা আবু বকরের কন্যা, প্রজ্ঞা-জ্ঞানবতী, প্রত্যুৎপন্নমতি, স্মৃতিশক্তি ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন, সুন্দরী, উদার ও মহৎ। ০৪.হাফসা বিনতে উমর (৬২৪-৬৩২): মহানবী ৫৪ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন সুন্দরী, গুণবতী, খলিফা ওমরের কন্যা ও বিধবা। ০৫.জয়নব বিনতে খুযায়মা (৬২৫-৬৩২): মহানবী ৫৫ বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন বিধাব, নিঃশ্বদের জননী, সুন্দরী। ০৬.উম্মে সালমা হিন্দ বিনতু আবি উমাইয়া (৬২৯-৬৩২): মহানবী ৫৫ বছর বয়সে তাকে ব...

ঈশ্বরের ধর্ম - মাটি ও ঈশ্বর

মাটি  ও ঈশ্বর  মাটি বড়ই দৈর্যশীল একটি সত্তা , মাটিকে মানুষ যতই কাটাকাটি, পিটাপেটি করুকনা কেন মাটি কখনোই মানুষকে এর ফিডব্যাক দেয়না। মাটি মানুষের এই চরম অত্যাচার সহ্য করে আসছে অনন্ত কাল অবদি, এটাই হয়ত মাটির ধর্ম । এই মাটি মানুষকে অনেক কিছু শিখাতেও চায় বিনামূল্যে,বিনাঘামে। মানুষ তাও মানতে চায় না। মানুষ তার নিজস্ব লালিত শিক্ষায় অনড় থাকতেই সাচ্ছন্দ বোধকরে। এতেও মাটির কোনো ফিডব্যাক নেই। মাটির ধর্মই যেন মানুষের নিপীড়ন সহ্য করা। অন্যদিকে ঈশ্বরের ধর্মও মাটির মতই। মানুষ ঈশ্বরকে রূপায়িত করেছে নানা রূপে , একেক জন একেক রূপে তাকে নানা রকম গালাগাল দিচ্ছে। মানুষ ঈশ্বরকে হাজার হাজার ধর্মের দায়িত্ব দিয়ে নিজ  নিজ মতে ভাগাভাগি করলেও তাতেও ঈশ্বরের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ঈশ্বর যেন মাটির ওই অনুসারী। মাটির সাথে ঈশ্বরের অনেকটাই মিল রয়েছে , ঈশ্বরের ধর্ম  ঈশ্বর সর্ব শক্তিমান, সৃষ্টি জগতের মালিক, মানুষের নিয়ন্তা, নেয় বিচারক,পরম করুণাময়  দয়ালু , ক্ষমাকারী, সাহায্যকারী।কিন্ত ব্যাপার হলো, তার এইসব মহান কর্মসাধনের জ...

খুঁতখুঁতে স্বভাবের মানুষ যেমন হয় -

এই গ্রহে এমন কিছু  ব্যাক্তি আছেন যারা অনেক খুঁতখুঁতে। খুঁতখুঁতে বলতে আমি যা বুঝাতে চাইছি তা হলো- সবকিছু একেবারে নিখুঁত না হলে যাদের  মন ভরে না, নিজের সবকিছুই একটা খুঁতহীন অবস্থায় যারা নিয়ে যেতে চাই। সব কিছুতেই যারা একেবারে ১০০% সন্তুষ্টি আশা করে থাকে। অথচ কাউকেই ব্যক্তিজীবনে কোনো কাজে ১% ও বিশ্বাস করতে পারে না, এবং সবার ক্ষেত্রেই একটা নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা বহন করে।।। এরকম মানুষ ব্যক্তিজীবনে ,কর্মজীবনে, সমাজজীবনে একটা অস্থির লোক হিসেবে গণ্য হয়।  যা তারা নিজে থেকে কখনো টের পাই না। আমার চারপাশে এমন কিছু কিছু লোক দেখি যারা সামনে দিয়ে মশা গেলেই ধরে ফেলে আবার পিছন দিয়ে হাতি গেলেও টের পাই না। শ্রমিকের পেটে লাথি মেরে হুজুরের কাছে সিন্নি পাঠায়। কথাটা আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে, এরা মজুরের টাকা মেরে মাজারে দান করে। এরা দেখা যাই শ্রমিকের ন্যায্য পাওনার বেলায় খুব হিসাবি, অথচ ভোগবিলাসিতার বেলায় চিন্তা থাকেনা একটুও। এরা এইটুক বুঝতে চাই না যে কর্মচারী যদি তার কর্মের সঠিক পুরস্কার পাই তাহলে তার একদিকে যেমন কর্মচারী খুশি থাকে, মন থেকে দুয়া করে অন্য দিকে তার কাজ গুলোও  নিখুঁত ভাবে করতে চেষ...